Dhaka ১০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি তেহরানের

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের এক শীর্ষ সংসদ সদস্য ঘোষণা করেছেন, ইউক্রেন এখন ইরানের জন্য ‘বৈধ টার্গেট’ হয়ে উঠেছে। ইরান পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি অভিযোগ করেন, ইউক্রেন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তা করছে। এজন্য প্রয়োজনে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার অধিকার তেহরানের আছে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আরটি। শনিবার এক্সে দেয়া এক বার্তায় আজিজি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে হামলাকারী পক্ষকে শক্তিশালী করতে কিয়েভ যদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠায়, তাহলে তা ইরানের আত্মরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়ার অধিকার সৃষ্টি করে। তিনি লিখেছেন, ইসরাইলি শাসনব্যবস্থাকে ড্রোন সহায়তা দিয়ে ব্যর্থ ইউক্রেন কার্যত এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এর ফলে ইউক্রেনের পুরো ভূখণ্ড এখন ইরানের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হয়ে গেছে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। তার দাবি, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনার ওপর ইরানি হামলার আশঙ্কা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সহায়তা চেয়েছিল। একই সঙ্গে অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশও কিয়েভের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন। জেলেনস্কি বলেন, আমি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছি। এ সপ্তাহে তিনি আরও দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশের সঙ্গে ইউক্রেন ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিক্রির চুক্তি করেছে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ আকাশ প্রতিরক্ষা দলও পাঠানো হবে।

এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যৌথ ড্রোন উৎপাদন চুক্তির বিষয়টিও তুলে ধরেন। জার্মান সাংবাদিক গর্ডন রিপিনস্কিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি আশা করি এখন হয়তো আমাদের আমেরিকান বন্ধুরা এই সিদ্ধান্তের কাছাকাছি আসবে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে আমরা যে ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখছি তার পরে। খবরে বলা হয়েছে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে যৌথ ড্রোন উৎপাদনের একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি বাস্তবায়িত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রথমদিকে ইউক্রেনের সহায়তার প্রস্তাবকে স্বাগত জানাতে আগ্রহী ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যেকোনো দেশের সহায়তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু পরে তিনি অবস্থান কিছুটা বদলান।
শুক্রবার ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের আত্মঘাতী ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের কোনো সহায়তার প্রয়োজন নেই। তার কথায়, ইরানের কামিকাজে ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের সাহায্য আমাদের দরকার নেই। এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ইউক্রেনকে সরাসরি যুক্ত করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনো অনিশ্চিত। তবে তেহরানের সতর্কবার্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

 

 

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি তেহরানের

আপডেটের সময়: ১২:৩০:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের এক শীর্ষ সংসদ সদস্য ঘোষণা করেছেন, ইউক্রেন এখন ইরানের জন্য ‘বৈধ টার্গেট’ হয়ে উঠেছে। ইরান পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি অভিযোগ করেন, ইউক্রেন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তা করছে। এজন্য প্রয়োজনে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার অধিকার তেহরানের আছে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আরটি। শনিবার এক্সে দেয়া এক বার্তায় আজিজি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে হামলাকারী পক্ষকে শক্তিশালী করতে কিয়েভ যদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠায়, তাহলে তা ইরানের আত্মরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়ার অধিকার সৃষ্টি করে। তিনি লিখেছেন, ইসরাইলি শাসনব্যবস্থাকে ড্রোন সহায়তা দিয়ে ব্যর্থ ইউক্রেন কার্যত এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এর ফলে ইউক্রেনের পুরো ভূখণ্ড এখন ইরানের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হয়ে গেছে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। তার দাবি, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনার ওপর ইরানি হামলার আশঙ্কা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সহায়তা চেয়েছিল। একই সঙ্গে অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশও কিয়েভের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন। জেলেনস্কি বলেন, আমি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছি। এ সপ্তাহে তিনি আরও দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশের সঙ্গে ইউক্রেন ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিক্রির চুক্তি করেছে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ আকাশ প্রতিরক্ষা দলও পাঠানো হবে।

এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যৌথ ড্রোন উৎপাদন চুক্তির বিষয়টিও তুলে ধরেন। জার্মান সাংবাদিক গর্ডন রিপিনস্কিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি আশা করি এখন হয়তো আমাদের আমেরিকান বন্ধুরা এই সিদ্ধান্তের কাছাকাছি আসবে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে আমরা যে ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখছি তার পরে। খবরে বলা হয়েছে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে যৌথ ড্রোন উৎপাদনের একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি বাস্তবায়িত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রথমদিকে ইউক্রেনের সহায়তার প্রস্তাবকে স্বাগত জানাতে আগ্রহী ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যেকোনো দেশের সহায়তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু পরে তিনি অবস্থান কিছুটা বদলান।
শুক্রবার ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের আত্মঘাতী ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের কোনো সহায়তার প্রয়োজন নেই। তার কথায়, ইরানের কামিকাজে ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের সাহায্য আমাদের দরকার নেই। এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ইউক্রেনকে সরাসরি যুক্ত করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনো অনিশ্চিত। তবে তেহরানের সতর্কবার্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।